তুমি যতই ভাবো তুমি ইন্টারনেট জানো, আসলে তুমি শুধু তার চামড়ার ওপর দিয়ে হেঁটেছ মাত্র।
নিচে যে সমুদ্র, তার গভীরতা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, নাসা মহাকাশে যতটা ডাটা খুঁজেছে তার চেয়ে বেশি ডাটা লুকিয়ে আছে এই অন্ধকারে।
১. সারফেস ওয়েব – মাত্র ৪% (যে জগতে আমরা বাস করি)
গুগল যা দেখায়, উইকিপিডিয়া, নিউজ সাইট, ইউটিউব, ই-কমার্স – এই হলো সারফেস ওয়েব।
২০২৫ সালে এর সাইজ আনুমানিক ৬০-৭০ জেটাবাইট।
কিন্তু এটা পুরো ইন্টারনেটের মাত্র ৪-৫%। বাকি ৯৫-৯৬% কোথায়?
২. ডিপ ওয়েব – ৯০-৯৫% (বৈধ, কিন্তু অদৃশ্য)
সাইজ: ৫০০-১০০০ গুণ বড় সারফেস ওয়েবের চেয়ে (প্রায় ৫০,০০০ জেটাবাইটের ওপরে)।
এখানে আছে:
- ব্যাংক ডাটাবেস, হাসপাতালের রেকর্ড
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইভেট রিসার্চ (পে-ওয়ালের পেছনে)
- সরকারি ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্ট
- Netflix-এর পুরো লাইব্রেরি (তুমি যা দেখো তা শুধু ফ্রন্টএন্ড)
ডিপ ওয়েবে যাওয়া অপরাধ নয়। তুমি যখন নেট ব্যাংকিং করো, তখনই ডিপ ওয়েবে ঢুকছ।

৩. ডার্ক ওয়েব – ০.০১% এরও কম, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর
এটা ডিপ ওয়েবের ভেতরের একটা ক্ষুদ্র অংশ, কিন্তু এখানেই পুরো দানব লুকিয়ে আছে।
২০২৫ সালে ডার্ক ওয়েবের বর্তমান চেহারা
- Tor নেটওয়ার্কে এখনো ১০০,০০০+ .onion সাইট
- বড় মার্কেটপ্লেস: Russian Market, Brian’s Club, 2easy, Cannazon, DarkPool
- পেমেন্ট শুধু Monero (XMR) – Bitcoin এখন ট্রেসেবল
এখানে কী বিক্রি হয়? (আনকাট লিস্ট)
- ড্রাগস – ৬০% মার্কেট (Fentanyl, Crystal Meth, LSD, Xanax)
- হ্যাকিং সার্ভিস – RDP, Zero-day exploit, DDoS
- ১২ বিলিয়ন+ লিকড অ্যাকাউন্ট
- ফেক পাসপোর্ট, লাইসেন্স (হলোগ্রাম সহ)
- অস্ত্র – Glock, AK-47, 3D প্রিন্টেড গান
- চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ম্যাটেরিয়াল
- Red Room / Hurtcore সাইট (লাইভ টর্চার)
- হিটম্যান সার্ভিস (৯৫% স্ক্যাম, কিন্তু ৫%…)
- Human Trafficking
পজিটিভ দিক (হ্যাঁ, আছে!)
- সাংবাদিক + হুইসলব্লোয়ারদের নিরাপদ চ্যানেল (BBC, ProPublica-র .onion আছে)
- সেন্সরড দেশে ফ্রি স্পিচ
- প্রাইভেসি এক্টিভিস্টদের প্ল্যাটফর্ম
- WikiLeaks-এর মিরর
নেগেটিভ দিক (রাতের ঘুম কেড়ে নেবে)
- কোনো আইন নেই, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই
- একবার দেখলে মন থেকে মুছে যায় না
- ৯০% সাইট স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার
- FBI, Europol, NSA – সবাই ছদ্মবেশে ঘুরছে
কীভাবে ১০০% সেফ থাকবে? (২০২৫ টিপস)
- ব্যক্তিগত ডিভাইসে Tor চালাবে না → Tails OS / Whonix (লাইভ USB)
- JavaScript অফ রাখো (NoScript বাধ্যতামূলক)
- Mullvad / ProtonVPN + Tor
- কখনো Gmail/FB-এ লগইন করবে না
- কোনো ফাইল ডাউনলোড নয়
- Webcam টেপ দিয়ে বন্ধ, মাইক অফ
- নিজের নাম/ছবি/লোকেশন শেয়ার নয়
- Bridges ব্যবহার করো
শেষ কথা
ডার্ক ওয়েব হলো একটা আয়না – যেখানে মানবজাতির সবচেয়ে কালো দিকটা খোলা চোখে দেখা যায়।
কেউ কেউ বলে, “যাও, দেখে এসো, জানো।”
আমি বলি – কিছু জিনিস না জানাই ভালো।
কারণ একবার দেখে ফেললে, সেটা তোমার মধ্যে থেকে যায়। চিরকাল।
তুমি কি এখনো ঢুকতে চাও?
নাকি এই লেখাটাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল?
কমেন্টে বলো – কোন অংশটা তোমার গায়ে সবচেয়ে বেশি কাঁটা দিল?
আর হ্যাঁ… Tor ডাউনলোড করার আগে দশবার ভাবো।
কারণ কিছু দরজা একবার খুললে আর বন্ধ হয় না।
(লেখাটা শেয়ার করতে পারো, কিন্তু নিজের রিস্কে) 😈
সার্ফেস ওয়েব বা নরমাল ওয়েব ইন্টারনেটের কত অংশ?
সার্ফেস ওয়েব ইন্টারনেটের মাত্র আনুমানিক ৩-৪ অংশ!! এটি আনুমানিক 60-৭০ জেটাবাইত!
Deep ওয়েব এ কি থাকে?
এখানে আছে:ব্যাংক ডাটাবেস, হাসপাতালের রেকর্ডবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইভেট রিসার্চ (যা পে-ওয়ালের পেছনে),সরকারি ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্ট (যা পাবলিক নয়)
ডার্ক ওয়েব কেন ভয়ংকর?
কোনো আইন নেই, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই,একবার ঢুকলে তোমার মনের ওপর দাগ পড়ে যায় চিরকালের জন্য,৯০% সাইটই স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার ছড়ায় , বিভিন্ন অমানবিক এবং অবৈধ কাজ হয় এখানে এই কারণে এটি ভয়ংকর! তবে এতে কিছু ভালো দিক ও আরও রয়েছে !

Turning ideas into digital reality . Founder of Mahmud’s Canvas.

